কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ এ ১১:৩৩ AM
কন্টেন্ট: পাতা
সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম: সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
কলেজের অবস্থান: নদীকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদগুলোর অন্যতম লালমনিরহাট জেলা। লালমনিরহাট জেলার সর্বউত্তরের উপজেলা পাটগ্রামে সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজের অবস্থান। এর পূর্ব দিকে ঢাকা-বুড়িমারী মহাসড়ক, পশ্চিমে তিনবিঘা করিডোর ও বুড়িমারী স্থলবন্দর, উত্তরে ধরলা নদী এবং দক্ষিণে ভারত।
ডাকঘর: পাটগ্রাম, উপজেলা ও থানা: পাটগ্রাম, জেলা: লালমনিরহাট
পোস্ট কোড: ৫৫৪০ ফোন: ০৫৯২৫-৫৬২৩১ মোবাইল: ০১৩০৯-১২৩০২৭
ওয়েবসাইট: www.gjkagc.gov.bd
www.gjkag.college.gov.bd
ই-মেইল: [email protected]
প্রতিষ্ঠাকালীন ইতিহাস: বাংলাদেশের উত্তরে তিস্তা-ধরলা বিধৌত স্বল্পোন্নত জেলা লালমনিরহাট। জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় ৯.২৩ একর খোলামেলা জায়গায় ০১.০৭.১৯৬৮ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ । প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ হলেন জনাব মো. তোজাম্মেল হোসেন, জনাব আলাউদ্দিন আহমেদ, জনাব আব্দুর রহমান মিয়া, জনাব আব্দুর রহমান প্রধান, জনাব মো. আজিজুর রহমান মিয়া, জনাব মো. আবেদ আলী, জনাব মো. আমির হোসেন প্রধান, জনাব আবুল হোসেন মিয়া, জনাব তফিজ উদ্দিন আহমেদসহ অনেক নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিবর্গ। কলেজটি ১৯৮৬ সালে সরকারিকরণ করা হয়।
কোর্স ও বিষয়সমূহ: কলেজটিতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায়শিক্ষা বিভাগ, স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে বি.এ., বি.এস.এস., বি.বি.এস., বি.এস-সি., স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ চালু আছে।
পোশাক: উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম আছে। ডিগ্রি (পাস) ও অনার্সের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতা নেই তবে মার্জিত পোশাক সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম চলে সকাল ১০.০০ টা থেকে বিকেল ০৪.০০ টা পর্যন্ত।
সাপ্তাহিক সমাবেশ: প্রতিমাসের প্রথম রবিবার উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পাঠদান শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে ছাত্র-ছাত্রীরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। সমাবেশে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতাপাঠ, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলন, জাতীয় পতাকাকে সম্মান প্রদর্শন এবং শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, উচ্চমাধ্যমিক মনিটরিং কমিটির সদস্যগণসহ সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা সমাবেশে উপস্থিত থাকেন।
উচ্চমাধ্যমিক মনিটরিং কমিটি: বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষাপটে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চয়নের লক্ষ্যে কলেজে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম ও নিবিড় পরিচর্যায় উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের গুণগতমানের উন্নয়ন ঘটেছে। তাই উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির জন্য মনিটরিং কমিটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছাত্র-শিক্ষক: এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি, ডিগ্রি (পাস) এবং অনার্সসহ মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩,০০০। গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষানিশ্চয়নের জন্য আছেন ৩১ জন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক-কর্মকর্তা। পাঠদান কার্যক্রমসহ কলেজের সার্বিক দেখভালের জন্য আছেন উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ মহোদয়।
প্রকাশনা: ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রকাশনা অন্যতম মাধ্যম। প্রতিবছর বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে দেয়ালপত্রিকাসহ স্মরণিকা বের করা হয়ে থাকে। ২০২৫ বার্ষিক ম্যাগাজিন “ধরলার তীরে ২” প্রকাশিত হয়েছে।
ভবন ও বিভাগ পরিচিতি
বর্তমানে মোট ৯ টি ভবন আছে। এর মধ্যে বাণিজ্যভবন (তিন তলা), অধ্যক্ষভবন পুরাতন (তিন তলা), লাইব্রেরি ভবন (দুই তলা) এবং একাডেমিক ভবন (বর্তমান বিজ্ঞানভবন ছয় তলা)। লাইব্রেরি ভবনের উপর তলায় উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ , কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির এক পাশে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার খোলা হয়েছে।
একাডেমিক ভবনের নিচ তলায় শ্রেণি কক্ষ ও শিক্ষক মিলনায়তন, দ্বিতীয় তলায় উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের কার্যালয় , সাধারণশাখা, হিসাবশাখা, তৃতীয় তলায় শ্রেণি কক্ষ চতুর্থ , পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় বিজ্ঞান ল্যাবসমুহ ও হলরুম আছে। বাণিজ্যভবনে আছে ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ। অনার্সভবনে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগ অবস্থিত।
লাইব্রেরি: শিক্ষার্থীদের জন্য এ কলেজে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। দায়িত্বে আছেন একজন সহকারী লাইব্রেরিয়ান, একজন বুকসর্টার ও একজন অফিস সহায়ক। লাইব্রেরিতে প্রায় ২০,০০০ বই আছে। লাইব্রেরিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বই, সকল বিভাগের রেফারেন্স বই, নাটক, উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ, ভ্রমণকাহিনী, বিজ্ঞান, দর্শন, বিভিন্ন জার্নালসহ অনেক দুর্লভ গ্রন্থ।
কলেজের পরিবেশ: মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সবুজে ঘেরা কলেজ ক্যাম্পাস। কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি বড় ও একটি ছোট পুকুর। বড় পুকুরের চার পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্যে কংক্রিটের বেঞ্চ এবং একটি নান্দনিক সানবাঁধানো ঘাট আছে। সেই সাথে রয়েছে একসঙ্গে অনেক ছাত্র-ছাত্রী বসে গ্রুপ স্টাডির জন্য কংক্রিটের করা গোলচত্বর। ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্য বড় আকারের একটি গাছের গোড়া বাঁধাই করে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফুলের বাগান আছে। কলেজের মধ্যে ভবনগুলোর সামনে দিয়ে আছে কংক্রিটের পাকা রাস্তা। কলেজকে সার্বক্ষণিক আলোকিত রাখার জন্য পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা আছে। রাত্রেবেলায় কলেজ ক্যাম্পাসটি অপরূপ রূপে সজ্জিত থাকে। সর্বোপরি, নান্দনিক বিশ্লেষণে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কর্মরত থেকে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে।
বিজ্ঞানাগার: এ কলেজে বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারিক শ্রেণিপাঠদানের জন্য বিজ্ঞানের প্রতিটি বিভাগে সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগার আছে। রসায়ন বিভাগে ১টি, পদার্থবিদ্যা বিভাগে ১টি, গণিত বিভাগে ১টি, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে ১টি ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ১টি এবং একটি অত্যাধুনিক আইসিটি ল্যাব আছে।
কম্পিউটার ল্যাব: এ কলেজে ৩২টি কম্পিউটারসংবলিত একটি মাল্টিমিডিয়া ল্যাব আছে। এখানে বিজ্ঞানসহ মানবিক ও ব্যবসায়শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিত কম্পিউটারে সিলেবাসভুক্ত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকে। আইসিটিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা ল্যাবটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে ইনহাউস ট্রেনিং এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ক্রীড়া-কক্ষ ও চিকিৎসাকেন্দ্র: ছাত্র-ছাত্রীদের দেহ ও মন সুস্থ রাখার জন্য খেলাধুলা ও চিকিৎসা আবশ্যক। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ কলেজে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্র ও প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সময়ের সাথে সংগতি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখে নিয়মিত সকল প্রকার খেলাধুলার ব্যবস্থা করেন। কলেজ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে সাধ্যমত ঔষধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বিজ্ঞানক্লাব: মেধাকে ব্যবহার করে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কলেজের বিজ্ঞানক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ক্লাবের দায়িত্বব্রত শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞানক্লাবের সদস্য করে তাদের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাকে এবং উদ্ভাবনী ধারণাকে যুগোপযোগী করতে সহায়তা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয় অর্জন করে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্লাব ছাত্র-ছাত্রীদের অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা লালন ও মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্লাব। এ ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের জন্য প্রতিবছর সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় আয়োজিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বহু পুরস্কার লাভ করেছে।
খেলার মাঠ: এ কলেজে একটি সুবিশাল খেলার মাঠ আছে। এ মাঠে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন বয়সের ছেলেরা খেলাধুলা করে থাকে। এছাড়াও রয়েছে মানসম্পন্ন ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলার গ্রাউন্ড। প্রতিবছর আন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, আন্তঃবিভাগ ফুটবল ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনাসহ প্রতিবছর সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় যাতে সকল শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন; এসময়ে কলেজকে বর্ণিল সাজে দেখতে পায় সকলেই।
মসজিদ: কলেজ মসজিদটি মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। সার্বিক পরিবেশ মসজিদের ভাবগাম্ভীর্যকে বজায় রেখে চলেছে। এ কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিগণ কলেজ মসজিদে পাঁচওয়াক্ত ও শুক্রবারের নামাজ আদায় করে থাকেন, একজন ইমাম ও একজন মুয়াজ্জিন রয়েছেন।
শহিদ মিনার: বর্তমান শহিদ মিনারটি মাঠের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে অবস্থিত যা দেখলে ভিন্ন এক ভাবনা চলে আসে। ভাষা শহিদদের প্রতি জাগ্রত হয় গভীর শ্রদ্ধা।
বিদায় ও শিক্ষাসমাপনী অনুষ্ঠান: প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে কলেজ হলরুমে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকগণ উপদেশ দিয়ে থাকেন এবং শিক্ষার্থীদের মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বিভিন্ন বিভাগে সম্মান শেষবর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের কোর্স শেষে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ উপস্থিত থেকে তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিক নির্দেশনামূলক উপদেশ দিয়ে থাকেন।
শিক্ষাসফর: কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে দূরবর্তী ঐতিহাসিক স্থানসমূহে শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করা হয় যাতে তারা শিক্ষার পাশাপাশি ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করে এবং বাস্তবজ্ঞান লাভে সক্ষম হয়।
অন্যান্য স্থাপনা: দুর-দুরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল রাখার জন্য একটি সাইকেল গ্যারেজ ও একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ আছে। মোটরসাইকেল গ্যারেজে শিক্ষকদের মোটরসাইকেল রাখার আলাদা ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলনের জন্য রয়েছে একটি সুন্দর পতাকামঞ্চ।
পরিচয়পত্র: এ কলেজে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচয় বহনের জন্য ভর্তির পর পরই প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে এ কলেজের লোগোসংবলিত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত পরিচয়পত্র দেয়া হয়।
আর্থিক লেনদেন: আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছতার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে কখনও নগদ টাকা গ্রহণ করা হয় না। ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ভর্তি বা ফরমপূরণের নির্ধারিত ফি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিয়ে থাকে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীগণ কম্পিউটারে নিশ্চিত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি বা ফরমপূরণের কাজ সম্পন্ন করেন।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থিতি গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ: একজন শিক্ষক যাতে পূর্ণ সময় শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন সেজন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রণয়ন করে নোটিশবোর্ডে টানিয়ে দেয়া হয়। পরীক্ষার ফলাফল-কলেজ ওয়েবসাইটে এবং কলেজ ফেসবুকেও প্রকাশ করা হয়। মাল্টিমিডিয়াসমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার নিমিত্ত উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির জন্য নির্ধারিত আছে মাল্টিমিডিয়াযুক্ত শ্রেণিকক্ষ। এছাড়া প্রত্যেক বিভাগে একটি করে শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়াযুক্ত আছে।
ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল: এ কলেজে ছাত্রদের জন্য ১৬৪শয্যাবিশিষ্টএকটিপাঁচতলাঅত্যাধুনিকছাত্রাবাস, ছাত্রীদেরজন্য১৫২শয্যাবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিকছাত্রীনিবাস এবং ৪০ শয্যাবিশিষ্ট আরেকটি আধাাপাকা ছাত্রাবাস রয়েছে। ৩ জন হোস্টেল সুপারের তত্ত্বাবধানে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
সিটিজেন চার্টার বা নাগরিকসনদ: কলেজ থেকে শিক্ষার্থীগণ, অভিভাবকমণ্ডলী কিংবা একজন সাধারণ মানুষ কী কী সেবা পেতে পারে সে উদ্দেশ্যে কলেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিটিজেন চার্টার বা নাগরিকসনদ লাগানো আছে। সেখান থেকে সহজেই সুবিধা প্রাপ্তির কথা জানা যায়।
কলেজ ড্রেস ও শিক্ষাদান: এখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান(মৌখিক পরীক্ষাসহ) নামে আলাদা ১০০ নম্বরের একটি পরীক্ষাগ্রহণ করা হয় যা তাদের পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
অধ্যক্ষ হিসেবে আমার প্রচেষ্টা: অধ্যক্ষ হিসেবে আমার ধ্যান-জ্ঞান শুধু একটাই- কলেজের শিক্ষার্থীদের কীভাবে স্বল্প খরচে আধুনিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দেয়া যায়, যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের মেধাকে বিকশিত করে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে উঠতে পারে।
উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমি শ্রেণিকক্ষসহ কলেজ ক্যাম্পাসকে সাজানো শুরু করি। ২০১৫ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে কলেজ উন্নয়ন তহবিলের অর্থে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহায়তায় উন্নয়ন কাজ শুরু করি। কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যবসায়শিক্ষা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি আধুনিকমানের হলরুম সুসজ্জিত করা হয়েছে শিক্ষকদের বসার জন্য। নির্মাণ করা হয়েছে ব্যবসায়শিক্ষা ভবনের উপর একটি সুবিশাল শ্রেণিকক্ষ যেখানে একসাথে ২০০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় এবং ৪০০ জন শিক্ষার্থী শ্রেণিপাঠে অংশগ্রহণ করতে পারে। মেয়েদের জন্য ৩টি ওয়াশরুম এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও ছাত্রদের জন্য ৫টি ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ১টি সাইকেল গ্যারেজ, ১টি মোটরসাইকেল গ্যারেজ, ১টি সুন্দর পতাকাচত্বর, ১টি ছাত্র-ছাত্রীদের ছাউনী, শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্য ২৫০ জোড়া বেঞ্চ, ১টি কেন্দ্রীয় সেমিনারকক্ষ, ক্রীড়াকক্ষ ও চিকিৎসাকেন্দ্র। কলেজে খোলা হয়েছে সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব ও তৈরী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। ফুটবল খেলার মাঠ সংস্কারসহ ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার গ্রাউন্ডের উন্নয়ন করা হয়েছে। কলেজ অভ্যন্তরে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজ মসজিদের সংস্কার করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে। সকল শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে অগ্নিনির্বাপকযন্ত্র বসানো হয়েছে। ১৬টি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগিয়ে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাস রাত্রিবেলায় আলোকিত রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইট দেয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি জাতীয় দিবস, সরকার নির্দেশিত অনুষ্ঠান ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। কলেজে ক্লাস শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বেই কলেজে আসার চেষ্টা করি। কলেজের প্রতিটি ক্লাস এবং পরীক্ষা নিখুঁতভাবে তদারকি করা হয়। কলেজ চলাকালীন যাতে কোন ছাত্র-ছাত্রী আমার অনুমতি না নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য মেইনগেইটে চারজন কর্মচারী সার্বক্ষণিক রাখার ব্যবস্থা করি। সর্বোপরি, কলেজকে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সম্ভব যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে উন্নয়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিশেষভাবে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকের সক্রিয় ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতায় এসব চলমান রয়েছে।
সর্বশেষ কথা: এত কিছুর পরেও প্রতিবছর ছাত্র-ছাত্রী বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে কলেজে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি।দূর-দূরান্ত থেকে আগত কলেজের শিক্ষকদের জন্য একটি শিক্ষক ডরমিটরি নির্মাণ করা হলে এ কলেজের শিক্ষকরা বেশ উপকৃত
হতেন যে সকল কর্মকর্তা এ কলেজে নিয়োগ পান তাদের আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা খুবই জরুরি যাতে ক্যাম্পাসে থেকেই তাদের মেধা ও মননশীলতাকে বৃদ্ধি করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারেন। ছাত্র-ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার জন্য কয়েকটি বাস সরকারিভাবে প্রদান করলে ১০/২০ কিলোমিটার দূরত্বের ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ি থেকে সহজেই তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারতো। সারাবছরই পরীক্ষা লেগে থাকায় শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। সুষ্ঠুভাবে শ্রেণিপাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এখন একটি বহুতল এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত এক্সামিনেশন হল নির্মাণ করা দরকার, যেখানে একসাথে পাঁচ হাজার ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিতে পারবে। কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা দরকার। ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যায়ামের জন্যে একটি মানসম্মত জিমনেসিয়াম নির্মাণ করা দরকার। সরকার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার সামগ্রী সরবরাহ করা প্রয়োজন। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বাসভবন নির্মাণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সংরক্ষণ ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে একদিন এ কলেজটি বিশ্বায়নে নেতৃত্বদানের উপযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে ।